বাংলার প্রাচীন শিল্পকলা||Ancient History of Bengal || বাংলাদেশের ইতিহাস || #ইতিহাস #বাংলা #Audiobook

Description

শিল্পকলা

১। স্থাপত্য শিল্প

প্রাচীন বাংলার স্থাপত্য-শিল্পের ইতিহাস লেখা অতিশয় কঠিন, কারণ হিন্দু যুগের প্রাসাদ, স্তূপ, মন্দির, বিহার প্রভৃতির কোন চিহ্ন এক প্রকার নাই বলিলেই চলে। ফা-হিয়ান ও হিউয়েন সাংয়ের বিবরণ এবং প্রাচীন শিলালিপি ও তাম্র- শাসনগুলির আলোচনা করিলে কোন সন্দেহ থাকে না যে, হিন্দুযুগে বাংলায় বিচিত্র কারুকার্য খচিত বহু হর্ম্য ও মন্দির এবং স্তূপ ও বিহার প্রভৃতি ছিল। কিন্তু এগুলি সবই ধ্বংস হইয়া গিয়াছে। প্রাচীন প্রশস্তিকারেরা উচ্ছসিত ভাষায় সকল বিশাল গগনস্পর্শী' মন্দির 'ভূ-ভূষণ', 'কুল-পর্বত-সদৃশ' অথবা 'সূর্যের গতি- রোধকারী' বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন, আজ তাহার চিহ্নমাত্রও নাই। দ্বাদশ শতাব্দী- তেও সন্ধ্যাকর নন্দী বরেন্দ্রভূমিতে 'প্রাংশু-প্রাসাদ', মহাবিহার এবং কাঞ্চনখচিত হর্ম্য ও মন্দিরসমূহ দেখিয়াছিলেন, তাহা সবই কালগর্ভে বিলীন হইয়াছে। বাংলার

স্থপতি-শিল্পের কীর্তি আছে, কিন্তু নিদর্শন নাই। এ দেশে প্রস্তর সুলভ নহে তাই অধিকাংশ নির্মাণ-কার্যেই ইটের ব্যবহার হইত। আর্দ্র বায়ু, অতিরিক্ত বৃষ্টি, বর্ষা ও নদীপ্লাবনের ফলে ইষ্টক শীঘ্রই ধ্বংস- প্রাপ্ত হয়। বৈদেশিক আক্রমণকারীর অত্যাচারেও অনেক বিনষ্ট হইয়াছে। প্রকৃতি ও মানুষ উভয়ে মিলিয়া বাংলার প্রাচীন শিল্পসম্পদ ভূপৃষ্ঠ হইতে বিলুপ্ত করিয়া দিয়াছে।

সামান্য কয়েকটি ভগ্নপ্রায় মন্দির এই বিশ্বগ্রাসী ধ্বংসের হস্ত হইতে কোন রকমে আত্মরক্ষা করিয়া এখনও দাঁড়াইয়া আছে। জঙ্গল-পরিপূর্ণ মুৎ-স্তূপ খনন করিয়া পুরাতত্ত্ব-অনুসন্ধিৎসুগণ কোন কোন অতীত কীর্তির জীর্ণ ধ্বংসাবশেষ আবার লোকচক্ষুর গোচর করিয়াছেন। ইহারাই বাংলার অতীত শিল্প-সম্পদের শেষ নিদর্শন। ইহাদের উপর নির্ভর করিয়াই বাংলার স্থাপত্য-শিল্পের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস রচনা করিতে হইবে। কিন্তু এ ইতিহাস নহে, ইতিহাসের কঙ্কালমাত্র। বাংলার প্রাচীন শিল্পসমৃদ্ধি এবং তাহার অতুলনীয় কীর্তি ও গৌরবের ক্ষীণ প্রতিধ্বনিও ইহার মধ্য দিয়া ফুটিয়া উঠিবে কিনা সন্দেহ।

(ক) স্তূপ

বৌদ্ধস্তূপই ভারতের সর্বপ্রাচীন স্থাপত্য-নিদর্শন। ভগবান বুদ্ধের অস্থি বা ব্যবহৃত বস্তু রক্ষা করিবার জন্যই প্রথমে স্তূপের পরিকল্পনা হয়। পরে বিশেষ বিশেষ ঘটনা চিরস্মরণীয় করিবার জন্য যে যে স্থানে তাহা ঘটিয়াছিল, সেখানে স্তূপ নির্মিত হইত। বৌদ্ধদের পূর্বেও হয়ত এই প্রথা ছিল, পরে জৈনরাও সস্তূপে নির্মাণ করিত। কিন্তু বৌদ্ধগণের মধ্যেই স্তূপ বিশেষ বিখ্যাত ছিল। বৌদ্ধগণ অপকে পবিত্র মন্দিরের ন্যায় জ্ঞান করিত এবং পরবর্তী কালে তাহারা স্তূপকেও পূজা ও অর্চনা করিত। স্তূপ নির্মাণ ও উৎসর্গ করা অতিশয় পুণ্য-কার্য বলিয়া.......



#বাংলাদেশের_ইতিহাস
#historyofbengal
#history
#প্রাচীনশিল্প
#বাংলারপ্রাচীনশিল্প
#বাংলার_শিল্পকলা
#প্রাচীনইতিহাস
#বাঙালির_ইতিহাস

#bengalhistory

Details

414 Views
শিল্পকলা

১। স্থাপত্য শিল্প

প্রাচীন বাংলার স্থাপত্য-শিল্পের ইতিহাস লেখা অতিশয় কঠিন, কারণ হিন্দু যুগের প্রাসাদ, স্তূপ, মন্দির, বিহার প্রভৃতির কোন চিহ্ন এক প্রকার নাই বলিলেই চলে। ফা-হিয়ান ও হিউয়েন সাংয়ের বিবরণ এবং প্রাচীন শিলালিপি ও তাম্র- শাসনগুলির আলোচনা করিলে কোন সন্দেহ থাকে না যে, হিন্দুযুগে বাংলায় বিচিত্র কারুকার্য খচিত বহু হর্ম্য ও মন্দির এবং স্তূপ ও বিহার প্রভৃতি ছিল। কিন্তু এগুলি সবই ধ্বংস হইয়া গিয়াছে। প্রাচীন প্রশস্তিকারেরা উচ্ছসিত ভাষায় সকল বিশাল গগনস্পর্শী' মন্দির 'ভূ-ভূষণ', 'কুল-পর্বত-সদৃশ' অথবা 'সূর্যের গতি- রোধকারী' বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন, আজ তাহার চিহ্নমাত্রও নাই। দ্বাদশ শতাব্দী- তেও সন্ধ্যাকর নন্দী বরেন্দ্রভূমিতে 'প্রাংশু-প্রাসাদ', মহাবিহার এবং কাঞ্চনখচিত হর্ম্য ও মন্দিরসমূহ দেখিয়াছিলেন, তাহা সবই কালগর্ভে বিলীন হইয়াছে। বাংলার

স্থপতি-শিল্পের কীর্তি আছে, কিন্তু নিদর্শন নাই। এ দেশে প্রস্তর সুলভ নহে তাই অধিকাংশ নির্মাণ-কার্যেই ইটের ব্যবহার হইত। আর্দ্র বায়ু, অতিরিক্ত বৃষ্টি, বর্ষা ও নদীপ্লাবনের ফলে ইষ্টক শীঘ্রই ধ্বংস- প্রাপ্ত হয়। বৈদেশিক আক্রমণকারীর অত্যাচারেও অনেক বিনষ্ট হইয়াছে। প্রকৃতি ও মানুষ উভয়ে মিলিয়া বাংলার প্রাচীন শিল্পসম্পদ ভূপৃষ্ঠ হইতে বিলুপ্ত করিয়া দিয়াছে।

সামান্য কয়েকটি ভগ্নপ্রায় মন্দির এই বিশ্বগ্রাসী ধ্বংসের হস্ত হইতে কোন রকমে আত্মরক্ষা করিয়া এখনও দাঁড়াইয়া আছে। জঙ্গল-পরিপূর্ণ মুৎ-স্তূপ খনন করিয়া পুরাতত্ত্ব-অনুসন্ধিৎসুগণ কোন কোন অতীত কীর্তির জীর্ণ ধ্বংসাবশেষ আবার লোকচক্ষুর গোচর করিয়াছেন। ইহারাই বাংলার অতীত শিল্প-সম্পদের শেষ নিদর্শন। ইহাদের উপর নির্ভর করিয়াই বাংলার স্থাপত্য-শিল্পের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস রচনা করিতে হইবে। কিন্তু এ ইতিহাস নহে, ইতিহাসের কঙ্কালমাত্র। বাংলার প্রাচীন শিল্পসমৃদ্ধি এবং তাহার অতুলনীয় কীর্তি ও গৌরবের ক্ষীণ প্রতিধ্বনিও ইহার মধ্য দিয়া ফুটিয়া উঠিবে কিনা সন্দেহ।

(ক) স্তূপ

বৌদ্ধস্তূপই ভারতের সর্বপ্রাচীন স্থাপত্য-নিদর্শন। ভগবান বুদ্ধের অস্থি বা ব্যবহৃত বস্তু রক্ষা করিবার জন্যই প্রথমে স্তূপের পরিকল্পনা হয়। পরে বিশেষ বিশেষ ঘটনা চিরস্মরণীয় করিবার জন্য যে যে স্থানে তাহা ঘটিয়াছিল, সেখানে স্তূপ নির্মিত হইত। বৌদ্ধদের পূর্বেও হয়ত এই প্রথা ছিল, পরে জৈনরাও সস্তূপে নির্মাণ করিত। কিন্তু বৌদ্ধগণের মধ্যেই স্তূপ বিশেষ বিখ্যাত ছিল। বৌদ্ধগণ অপকে পবিত্র মন্দিরের ন্যায় জ্ঞান করিত এবং পরবর্তী কালে তাহারা স্তূপকেও পূজা ও অর্চনা করিত। স্তূপ নির্মাণ ও উৎসর্গ করা অতিশয় পুণ্য-কার্য বলিয়া.......



#বাংলাদেশের_ইতিহাস
#historyofbengal
#history
#প্রাচীনশিল্প
#বাংলারপ্রাচীনশিল্প
#বাংলার_শিল্পকলা
#প্রাচীনইতিহাস
#বাঙালির_ইতিহাস

#bengalhistory

Related Audio Books

বাংলা দেশের ইতিহাস প্রাচীন যুগ ভূমিকা ও প্রকাশকের কথা। ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত।
বাংলা দেশের ইতিহাস প্রাচীন যুগ ভূমিকা ও প্রকাশকের কথা। ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের ইতিহাস (প্রাচীন যুগ) ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত ১ম পর্ব
বাংলাদেশের ইতিহাস (প্রাচীন যুগ) ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত ১ম পর্ব (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার প্রাচীন জনপদ ও সীমানা,(বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ২য় পর্ব।
বাংলার প্রাচীন জনপদ ও সীমানা,(বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ২য় পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাঙালি জাতির উৎপত্তি (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ৩য় পর্ব।
বাঙালি জাতির উৎপত্তি (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ৩য় পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের প্রাক আর্যযুগ ও আর্য প্রভাব (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার)৪র্থ পর্ব।
বাংলাদেশের প্রাক আর্যযুগ ও আর্য প্রভাব (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার)৪র্থ পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ( বাংলা দেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার পর্ব -৫
বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ( বাংলা দেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার পর্ব -৫ (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
গুপ্ত শাসন ও গুপ্ত পরবর্তী যুগ (বাংলা দেশের ইতিহাস ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার ৬ষ্ট পর্ব)
গুপ্ত শাসন ও গুপ্ত পরবর্তী যুগ (বাংলা দেশের ইতিহাস ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার ৬ষ্ট পর্ব) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
প্রাচীন পাল সাম্রাজ্য  (বাংলাদেশের ইতিহাস ড. রমেশচন্দ্র  মজুমদার ৮ম পর্ব)
প্রাচীন পাল সাম্রাজ্য (বাংলাদেশের ইতিহাস ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার ৮ম পর্ব) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার পাল সাম্রাজ্যের পতন,বাংলাদেশের ইতিহাস, ড.রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার পাল সাম্রাজ্যের পতন,বাংলাদেশের ইতিহাস, ড.রমেশচন্দ্র মজুমদার (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস, পাল সাম্রাজ্যের পতন (বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার)
বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস, পাল সাম্রাজ্যের পতন (বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার