কতো প্রকারের মসলিন ছিলো ??? || ঢাকাই মসলিনের ইতিহাস ||ঢাকাই মসলিন, ড. আবদুল করিম || #Dhakai_Moslin

Playlist Audiobooks

Description

এদের মধ্যে পার্থক্য ছিল এই যে, এলাচীর রূপ সেরূপ ছিল না অর্থাৎ দুই পিঠেই একরূপ ছিল, কিন্তু মোশরুর দুই পিঠে দুই রকম বুননী বা ডিজাইন ছিল।

সুতা মিশ্রিত সিল্ক কাপড় প্রধানত আরব দেশে রপ্তানির জন্য তৈরি হতো। বর্মা বা অন্যান্য প্রাচ্য দেশে অল্প-বিস্তর রপ্তানি হলেও এর প্রধান বাজার ছিল আরব দেশে, বিশেষ করে জিদ্দা, মক্কা, বসরা এবং মীনাবাজারে এবং সেখান থেকে মিশর ও ইস্তাম্বুলেও চালান দেয়া হতো।

উপরে ঢাকাই মসলিনের যে বিবরণ দেয়া হয়েছে তাতে দেখা যায়, বেশির ভাগ মসলিনের নাম ফারসি ও আরবি শব্দ থেকে উদ্ভুত। এতে নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, মুসলমান আমলে এসব মসলিনের নামকরণ করা হয়েছে। আগে বলা হয়েছে যে পূর্ববঙ্গের মসলিন শিল্প বহু দিনের, মুসলমান আগমনের অনেক পূর্ব থেকেই বস্ত্র শিল্পের উৎপত্তি। কিন্তু মসলিন শিল্পের পূর্ণ বিকাশ লাভ করে মুসলমান আমলে এবং ঢাকাই মসলিনের স্বর্ণ যুগ আরম্ভ হয় মোগল আমলেই। শুধু যে মসলিন শিল্পের উন্নতি হয় তাই নয়, দেশ-বিদেশে মসলিনের চাহিদাও দিন দিন বেড়ে যায় এবং অনেক বিদেশি ব্যবসায়ী ঢাকার বাজারে ভিড় শুরু করে। ইউরোপীয় বণিক কোম্পানিদের বাণিজ্য কুঠি স্থাপনের পরে তাদের ফরমায়েশে এবং তাদের চাহিদা মিটানোর জন্য নতুন নতুন বিভিন্ন প্রকারের মসলিন তৈরি হতে থাকে, কিন্তু যেহেতু দেশের রাষ্ট্রভাষা তখন ফারসি ছিল তাদের নামকরণেও ফারসি প্রভাব পড়ে। ইউরোপীয়দের বাণিজ্যও আরম্ভ হয় মোগল আমলেই এবং মোগল শাসন ব্যবস্থা শিথিল হওয়ায় সাথে সাথে মসলিন শিল্পের ও অবনতি ঘটতে থাকে। সুতরাং এক কথায় বলা যায়, মোগল আমলই, প্রধানত সতেরো শতক, ঢাকার মসলিন শিল্পের স্বর্ণযুগ।

সূত্রঃ

১. Journal of the Asiatic Society of Pakistan, vol. VII No. 2, pp. 303-304 ২. Journal of the Asiatic Society of Pakistan, vol. VIi, no. 2, pp. 324-26

তালিকাটি জন টেলরের বিবরণ থেকে নেয়া হয়েছে কারণ টেলর ইংরেজ কোম্পানি কর্তৃক রপ্তানিকৃত সকল প্রকার মসলিন এক জায়গায় তালিকাবদ্ধ করেছেন। বিস্তৃত

তালিকার জন্য Dacca Factory Records দ্রষ্টব্য। 9. C. f. Dacca Factory Records, vol. II, 19th February, 1737 17th August, 1737, 6th December, 1737.


৪. বিস্তৃত বিবরণের জন্য দেখুন, Forbes Watson: The Textile Fabrics of India, vol. VII.

৫. Bolt: Consideration on Indian Affairs, p. 206

৬. কেউ কেউ একে শরবর্তী বলে থাকেন এবং মনে করেন যে শরবত (পানীয়) থেকে এ নামের উৎপত্তি। আমার মনে হয় কোনো কাপড় শরবতের মতো হতে পারে না; ফারসি শব্দ সর দ্বারাই আমাদের সিদ্ধান্তের সারতা প্রতিপন্ন হয়। তাছাড়া সমসাময়িক লেখকদের বিবরণ থেকেই বুঝা যায় যে, শব্দটি সর-বুটী।

৭. Bolt: Consideration on Indian Affairs,

৮. Journal of the Asiatic Society of Pakistan vol. VII, no 2, p. 303

৯. A Descriptive and Historical Account of the Cotton Manufacture of Dacca, p. 43

১০. A General Guide to the Dacca Museum, p. 62

১১. Journal of the Asiatic Society of Pakistan, vol. VII, no. 2, p. 317

১২. A Descriptive and Historical Account of the Cotton Manufacture of Dacca, p. 57

#অডিওবুক
#বাংলা_অডিওবুক


#মসলিন



#মসলিনের_যত_প্রকার