বিকাশ মনোবিজ্ঞান
ভিত্তিতে হারলক মানুষের আয়ুস্কালের উপর প্রভাব বিস্তারকারী যে যে উপাদান চিহ্নিত করেছেন সেগুলো নিম্নরূপ:
(ক) বংশগতি: আয়ুস্কাল বংশগতির উপর নির্ভরশীল।
(খ) দৈহিক বৈশিষ্ট্য: যে সব ব্যক্তির আকৃতি ও দৈহিক গঠন বয়সোপযোগী সাধারণ গড় মানের সমান তাদের বেঁটে অথবা লম্বা, কম ওজনবিশিষ্ট অথবা অতিরিক্ত ওজনবিশিষ্ট ব্যক্তির চেয়ে বেশিদিন বেঁচে থাকতে দেখা যায়।
(গ) স্বাস্থ্য: জীবনব্যাপী বিশেষত শৈশব ও কৈশোরের মত দ্রুত বিকাশ সাধন পর্যায়ে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘজীবী হওয়া সম্ভব।
(ঘ) লিঙ্গ: সমষ্টিগতভাবে মহিলারা পুরুষদের চেয়ে দীর্ঘজীবী হয়ে থাকে।
(ঙ) জাতি: আমেরিকায় নিগ্রো, পোর্টেরিকান ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ব্যক্তিরা শ্বেতকায় ব্যক্তিদের তুলনায় স্বল্পায়ু হয়।
(চ) ভৌগোলিক অবস্থান: শহর এবং মফস্বল অঞ্চলে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ও সুচিকিৎসার বন্দোবস্ত থাকায় সেসব অঞ্চলে বসবাসকারী ব্যক্তিরা গ্রামাঞ্চলের ব্যক্তিদের চেয়ে দীর্ঘজীবী হয়।
(ছ) আর্থসামাজিক অবস্থা: পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা যত স্বচ্ছল হয় সেই পরিবারভুক্ত ব্যক্তিদের তত বেশি জীবিত থাকতে দেখা যায়।
✓ (জ) বুদ্ধিমত্তা: উন্নত বুদ্ধির অধিকারী ব্যক্তিরা স্বল্পবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তিদের চেয়ে দীর্ঘদিন জীবিত থাকে।
(ঝ) শিক্ষা: উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিদের অশিক্ষিত অথবা অর্ধশিক্ষিত ব্যক্তি অপেক্ষা বেশিদিন জীবিত থাকতে দেখা যায়।
(ঞ) ধূমপান ও মদ্যপান: যে সব ব্যক্তি ধূমপান করে না ও মদ্য পান করে না তারা ধূমপান ও মদ্যপানে আসক্ত ব্যক্তিদের তুলনায় দীর্ঘায় হয়।
✓(ট) বিবাহ: অবিবাহিত ব্যক্তিদের চেয়ে বিবাহিত ব্যক্তিদের আয়ু বেশি হতে দেখা যায়।
✓(ঠ) কর্মক্ষমতা: অদক্ষ ব্যক্তিরা দক্ষ ব্যক্তিদের তুলনায় কমদিন জীবিত থাকে। কারণ দক্ষ ব্যক্তি অল্প পরিশ্রমে একটি কাজ সম্পাদন করতে পারে।
(ড) উদ্বেগ কাজ ও পারিবারিক সমস্যা অথবা অর্থনৈতিক অথবা অন্যান্য সমস্যা সম্বন্ধে যারা দুশ্চিন্তায় ভোগেন তাদের মধ্যে প্রায়ই উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেওয়ায় আয়ু কমে আসে।
✓ (ঢ) পেশা: বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের আয়ুস্কাল পৃথক হয় বলে
জানা যায়।
(ণ) সুখ: যারা নিজেদের জীবনযাপন প্রণালীতে সুখী ও সন্তুষ্ট আর যে সব ব্যক্তি নিজেদের জীবনধারায় সুখী নয় কিম্বা অসন্তুষ্ট, এই দুই শ্রেণীর মধ্যে প্রথম শ্রেণীর ব্যক্তি দ্বিতীয় শ্রেণীর ব্যক্তির তুলনায় দীর্ঘায়ু হয়।
অতএব একজন ব্যক্তি যে কতদিন জীবিত থাকবে তা আগে থেকে নির্ধারণ করা না গেলেও শ্যেনফিল্ড (Scheinfeld)-এর মতে তিনটি বিষয় এক সাথে বিবেচনা করা হলে একজন ব্যক্তির আয়ুস্কাল সম্পর্কে মোটামুটি একটি ধারণা করা সম্ভব।
প্রথম বিষয় হল জীবনের উৎপত্তি থেকে শুরু করে যে বয়সে শিশু রয়েছে সে সময় পর্যন্ত জীবনধারণের পরিবেশ। দ্বিতীয় বিষয়টি হল, বংশগতভাবে সজীবতা অথবা দুর্বলতার (যেমন, বিশেষ কোন রোগ, ত্রুটি ও সাধারণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অভাব) অধিকারী হওয়া এবং সর্বশেষ বিষয়টি হচ্ছে ভাগ্য।
১.১০ জীবন প্রসরের বিভিন্ন বিভাগ
আচরণ অথবা বিকাশের বিশেষ বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয়। জীবন ক্ষণস্থায়ী অথবা দীর্ঘস্থায়ী যাই হোক না কেন, আচরণ ও বিকাশজনিত বৈশিষ্ট্যের পরিপ্রেক্ষিতে সমস্ত জীবনকে কয়েকটি বয়স অথবা পর্যায়ে বিভক্ত করা হয়েছে। সময়ানুক্রমিক বয়স (chronological age) অথবা (C.A) এই বিভক্তিকরণের মানদন্ড। এ প্রসঙ্গে ফ্রাই (Fri)" এর বক্তব্য উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেছেন যে সময়ানুক্রমিক বয়স জৈবিক, মানসিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক যোগ্যতার মোটামুটি পরিচয় বহন করে। মোটামুটি নির্দেশক হলেও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ও গবেষণার বিস্তৃত ক্ষেত্রে সময়ানুক্রমিক বয়স অনুযায়ী ব্যক্তিদের বিভিন্ন বয়সে বিভক্ত করার রীতি বহুল প্রচলিত। বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত ঘটনাবলী যা প্রকৃতপক্ষে সামাজিক প্রক্রিয়ার সময় নির্দেশক তার সাহায্যে ব্যক্তির কৃষ্টিগত ঐতিহ্য নির্ধারণ করা হয়। প্রত্যেক ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় ও সামান্য আগে পরে হলেও একটির পর একটি বিকাশমূলক পর্যায় অতিক্রম করে। যা হোক ফ্রাইয়ের ব্যাখ্যার পুনরুক্তি করে বলা যায় যে পরম্পরা বিশিষ্ট বিকাশ ধারার যে পর্যায়ে ব্যক্তি অবস্থান করছে বয়স হচ্ছে তার নির্দেশক।
#অডিওবুক
#বিকাশমনোবিজ্ঞান
#মানুষেরআয়ুষ্কাল